মনপুরায় গ্রাম্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে মারধরের বিচার না পাওয়ায় খালেক( ২২) নামের এক জেলে বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ) সকালে ওই জেলে নিজ বাড়িতে বিষ পানের ঘটনা ঘটায়। অতপর তাকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ভোলায় রেফার করেন। ভোলায় নেওয়ার পর জেলে খালেক কে ঢাকায় রেফার করেন। ঢাকায় নিয়ে তাকে আইসিইউ তে ৪ দিন রাখার পর অবশেষে খালেক মৃত্যু বরন করেন।
মৃত খালেক ভোলা জেলা মনপুরা উপজেলা ২ নং হাজীরহাট ইউনিয়ন ৭ নং ওয়ার্ড এর স্থানীয় বাসিন্দা বেল্লাল এর ছোট ছেলে।
এলাকা সুত্রে জানাজায় ২ নং হাজীরহাট ইউনিয়ন এর বাসিন্দা মৃত নুরু'র ছেলে মোঃ রবুর নৌকায় দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক হাজিরা হিসেবে মাছধরা কাজ করতেন খালেক। কয়েকদিন খালেক মাছ ধরতে না যাওয়ায় রবু'র দুই ছেলে আশিক (২০) এবং ইব্রাহিম (১৮) খালেক কে নৌকায় যেতে বললে সে যাবেনা বলে। এর পর আশিক এবং ইব্রাহিম (২ সেপ্টেম্বর) সকালে লোকজনের সামনে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকলে খালেক জ্ঞান হারিয়ে পেলে তারপর তাকে রেখে চলে যায় আশিক এবং ইব্রাহিম । এরপর খালেকের জ্ঞান ফিরলে সে উঠে দ্রুত নৌক্যাম্পে গিয়ে বিচার দেয় নৌবাহিনী খালেক কে বলে এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারের কাছে বিচার দেওয়ার জন্য। ৭ নং ওয়ার্ড এর মেম্বার জাফর কে বিষয়টি জানালে সে বলেন আমি এখন বিচার করি না তুমি ৪ নং ওয়ার্ড এর মেম্বার মহিউদ্দিন এর কাছে যাও। এর পর মহিউদ্দিন মেম্বার তার পরদিন বিচারের তারিখ দিলেও মেম্বারসহ কেউই আসেনি বিচার করার জন্য। এর পর খালেক এলাকায় কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে বিচারের দাবীতে গেলেও কেউ বিচার করেনি। দুইদিন এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের কাছে গিয়েও বিচার না পেয়ে গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) তার নিজ বাড়িতে বিষপান করেন খালেক ।
বিষপান করার পর তার পরিবার দ্রুত চিকিৎসার জন্য মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার বিষ ওয়াশ করে তাকে ভোলায় রেফার করেন। এরপর ভোলা থেকে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয় ।
খালেকের বড় ভাই বলেন : আমার ভাই আমাদের সবার ছোট। তার গায়ে আমরা কখনো হাত তুলি নাই। আমার ভাই কাজ না করলেও আমরা কিছু বলিনা। রবুর নৌকায় মাছ ধরতে না যাওয়ায় রবুর দুই ছেলে আশিক এবং ইব্রাহিম মানুষের সামনে পালাইয়া কুকুরের মত মারধর করেছে। আমার ভাই সবার কাছে বিচারের জন্য গেছে। কেউ বিচার না করায় গত শুক্রুবার বিষ খেয়েছে। রবু রা কেউ আমার ভাইকে দেখতে যায়নায় তাহারা আমাদেরকে একটি টাকাও দেয়নাই ।আমরা মানুষের কাছ থেকে চাঁদা উঠিয়ে ভাইকে ঢাকায় নিয়ে গেছি। আমার ভাই চারদিন আইসিইউতে চিকিৎসায় থাকার পর গত রাতে ৩ টায় মারা গেছ আমি আমার ভাইয়ের মৃত্যুর বিচার চাই।
মৃত খালেক এর মা বলেন,আমার ছেলেকে আশিক এবং ইব্রাহিম কুকুরের মত পিটিয়েছে । আমার ছেলে নৌবাহিনী, জাফর মেম্বার, মহিউদ্দিন সেক্রেটারি , নেতাদের কাছে কাছে ভিক্ষুকের মতো ঘুরছে বিচারের আসায়। কিন্তু কেউ বিচার করে নাই। বিচার না পেয়ে আমার ছেলে বিষ খেয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
অভিযুক্তদের মা বলেন, খালেক আমাদের আত্মীয় স্বজন। খালেক আমার দুই ছেলের সাথে একসাথে মাছ ধরতো কিছুদিন ধরে খালেক মাছ ধরতে না যাওয়াতে আমার ছেলে আশিক এবং ইব্রাহিম দুইটা থাপ্পড় দেয়।
এবিষয়ে ৪ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন বলেন, এই ঘটনা ৭ নং ওয়ার্ড এর জাফর মেম্বার এর এলাকার। জাফর মেম্বার যদি আসে তাহলে আমি আসবো বলেছি। এর পর আর কোন বক্তব্য দিতে আমি পারবোনা ।
৭ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য জাফর মেম্বার বলেন, আমার কাছে খালেক নামের একজন ছেলে এসে এই বিষয় জানিয়েছে। আমি বলেছি রবু নাছির ক্যারানির স্বজন নাছির ক্যারানি কে জানাও। সে যদি বিচার না করে তাহলে আমাকে বলিও। এর পর আর কিছু আমাকে জানায়নি
এই বিষয়ে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আহসান কবির জানান,আমাদের কাছে মৃত খালেক এর মা একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। আমাদের অফিসার অভিযুক্তদের খোঁজে ৩ দিন গিয়েও পায়নি।
মোহাম্মদ মাকছুদ